একজন মানুষের পরিচয় কি? – আমার আত্নভাবনা

একটি শিশু জন্মগ্রহনের পর সবাই জানতে চায় শিশুটি ছেলে হয়েছে নাকি মেয়ে। গায়ের রং ফর্সা নাকি কালো। ব্যাস আপাতত এটিই শিশু সম্পর্কে জানার থাকে।

ধীরে ধীরে শিশুটি বড় হয়। ৪ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত মনুষজন শুধু জানতে চায় নাম কি ও কোন ক্লাশে পড়ে। বড়জোর রোল নাম্বার কতো এইটা অনেকে জিজ্ঞাসা করে থাকে।

ইন্টার পাশ করার পর একজন মানুষের মনে জীবন সম্পর্কে এমনিতেই ভাবনা চলে আসে। একজন ছেলে তখন সমাজে পরিচিতি পায় তার কাজের দ্বারা। আর মেয়ে পরিচিতি পায় তার ভালো ব্যবহার দ্বারা।

ছেলেদের ক্ষেত্রেঃ ২২ বছর পার হয়ে গেলে কেউ জিজ্ঞাসা করে না যে, আপনি স্কুলে বা কলেজে কেমন ছাত্র ছিলেন। কারো গায়ে লেখাও থাকে না। সবাই শুধু জানতে চায় আপনি কি করেন? তখন আপনার ক্যারিয়ার বা আপনার বিজনেস ই থাকে আপনার একমাত্র দেবার মতো পরিচয়।

মেয়েদের ক্ষেত্রেঃ আর মেয়েদের বেলায় হয়তো গায়ের রং, চেহারার সৌন্দর্যটা কিছুটা সবার নজরে আসে। কিন্তু সবচেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে তার ব্যবহার। একজন অতি সুন্দরী মানুষ যদি কর্কশ হয় তাহলে আপনি তাকে খারাপ হিসাবেই জানবেন। মোটকথা, একটি মেয়ের সবচেয়ে বড় অলংকার তার ভালো ব্যবহার। অন্যান্য গুন থাকলে প্লাস পয়েন্ট। একটি ভালো ছেলে সর্বদাই একটা ভালো মনের মানুষ খুজে বেড়ায়।

অথচ, মানুষ তার নির্ধারিত সময় হয়ে গেলেও বেমালুম ভুলে যায় নিজের পরিচয় সম্পর্কে। প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পরও যদি কেউ নিজের পরিচয় দিতে পারার মতো কিছু অর্জন না করে তবে তা কতটা বিড়ম্বনা ডেকে আনে তা নিশ্চই বলে দেওয়া লাগবে না। এ লেখাটি যদি আপনি পড়ে থাকেন তবে আপনার উচিত হবে, নিজের পরিচয় দেবার মতো সম্পদ অর্জন করা।

একজন মানুষের পরিচয় কি? – আমার আত্নভাবনা
5 (100%) 1 vote[s]