অন্যজনের ভাবনা কে সন্মান দেওয়া মনুষত্বের পরিচায়ক

একটাই পৃথিবী। অনুমানিক সাড়ে সাতশত কোটি মানুষ। অথচ প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৃথিবীটা এক এক রকম। একজন প্রেসিডেন্ট এর কাছে পৃথিবীটা যেমন, একজন সাধারন নাগরিকের কাছে পৃথিবীটা সম্পূর্ন আলাদা। একজন উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের ভাবনা কোনদিন ও এক হবে না। অথচ একই পৃথিবী, একই দেশ, একই মহল্লায় দুইজনের বসবাস।

আপনার অবস্থাটা একবার ভাবুন। আপনি কেনো সুখী? নিশ্চই এর পেছনে রয়েছে আপনার পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া সম্পদ। কিংবা হয়তো আপনার বাবা অনেক সম্পদশালী। সবকিছু বাদ দিন। আজ যদি আপনার এমন কোন বিপদ আসে যা দূর করতে আপনার ১০ লাখ টাকা লাগবে, তা হয়তো আপনার বাবা কিংবা দাদার জমি বিক্রি করে আপনি সহজেই দূর করতে পারবেন। তাই না? যখন আপনি জীবন সম্পর্কে ভাবেন তখন আপনি হয়তো ভাবেন যে, আপনার শেষ আশ্রয় হিসাবে আপনার বাবা, দাদা কিংবা আপনার কোন বড় ভাই বোন আছে। কিন্তু, যে মানুষটার আপনার মতো কোন ভরসা নেই? তার কি হবে? আপনি ও তার মধ্যে এইটুকুই ব্যবধান।

আপনার যে কোন বিপদে আপনি কিছু একটা ভেবে নিজেকে সান্তনা দেন। কিন্তু যার সান্তনা দেওয়ার মতো আসলেই কিছু নেই? তার পৃথিবীটা কতটা নির্মম একবার ভেবে দেখুন। খেয়াল করে দেখবেন যে, একসাথে চলাফেরা করা দুইজন বন্ধুর চিন্তাভাবনা ভিন্ন। একজন মাস্তি করে বেড়াচ্ছে। অথচ অন্যজন করতে পারছে না। তার মন সর্বদাই খরাপ থাকে। কখনো কি কারনটা জানতে চেয়েছেন? কখনো কেউ বলে না। চেহারায় তাকালেই বুঝা যায় কতটা দুশ্চিন্তায় দিন কাটে তার। আর যে নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছে তার পেছনে রয়েছে তার পৈত্রিক সম্পত্তির ভরসা। তার বড় ভাই কিংবা বোন রয়েছে যে শেষ ভরসা হিসাবে ভাইয়ের সকল আবদার পূর্ন করে। তাই সে নিশ্চিন্তে আনন্দে ঘুরে বেড়াতে পারছে। মূলত এইটাই মূল কারন।

তবে কি একটা দরিদ্র পরিবারে জন্মানো কারো অপরাধ? নাহ। কখনোই না। একজন এমপির ছেলে জন্মানোর পর থেকে জীবনে কোনদিন অভাব বোধ করে না। অথচ সাধারন নিম্নবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মানোর পর থেকেই নানান দুঃখ কষ্ঠে দিন কাটে। এই দুইজন মানুষের মধ্যে পার্থক্য একটাই। তারা দুইজন দুই পরিবারে জন্মেছে। দুইজন ই রক্ত মাংসের গড়া মানুষ। দুইজন ই গড়ে ৬০ বছর আয়ু পাবে। কেউ হয়তো টাকার পাহাড়ে যা খুশি তাই করে বেড়াবে আর একজন অর্থকষ্টে পরিক্ষার ফি পর্যন্ত দিতে পারবে না। এইবার বলুন, এই দুইজন মানুষের সত্তাকে আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ আছে কি?

কেউ ইচ্ছা করে গরীব হয় না। কিংবা কেউ ইচ্ছা করে ছোট থাকতে চায় না। বাস্তবতা তাদের শ্রেনীবদ্ধ করে রাখে। একটা ধনী শ্রেনী, আর একটা গরীব শ্রেনী।

বিশেষ করে সভ্য জাতিগুলি এই বিষয়টি ভালো করেই পালন করে। তাই তারা প্রত্যেকের সাথে কখা বলার সময় হাসি মুখে কথা বলে। ইগো বা অহংকার তাদের মনে কাজ করে না। সিঙ্গাপুর ও মালৈশিয়া সফর করার সময় এই বিষয়টা খুবই ভালো করে খেয়াল করেছি। তাদের কাছে একজন মানুষের বড় পরিচয় হচ্ছে মানুষ। এর বেশি কিছুই না। যে কোন একটা কারনে আমরা মানুষকে সন্মান দিতে কৃপনতা করি। ইকটু ভালো অবস্থানে থাকলে নিচু কারো কথা খুব একটা প্রাধান্য দেই না। অনেক ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, আমার কাছে পৃথিবীটা যেমন হয়তো সবার কাছে ঠিক তেমন ই। অথচ, একই বাবার দুই সন্তান যারা কিনা একই বিছানায় বড় হয়েছে ছোটকাল থেকে, তাদের দুইজনের কাছে পৃথিবীটা অলাদা। দুজনের কার্যক্ষমতা আলাদা। অন্যজনের ভাবনা কে প্রধান্য দিতে শিখুন। তবেই বুঝবেন যে, আপনি সত্যিকারের মনুষ্যত্বের অধিকারী।

আর যদি তা না পারেন, তবে আপনি অন্ধকারে বসবাসরত একটি মনুষ্যত্বহীন নিকৃষ্ট প্রানী।

আবার কোন এক ভাবনা নিয়ে অন্যদিন লিখবো। আজ এ পর্যন্তই।

অন্যজনের ভাবনা কে সন্মান দেওয়া মনুষত্বের পরিচায়ক
5 (100%) 1 vote[s]