ফেসবুক একাউন্ট ব্লক হতে রক্ষা পাওয়ার উপায়

ফেসবুক একাউন্ট খুললে তা শুধু শুধু ই ব্লক হয়ে যায় বলে অনেকে মনে করেন।অসলে কিন্তু শুধু শুধু ব্লক হয় না। কিভাবে আপনি ফেসবুক একাউন্ট ব্লক হতে রক্ষা পাবেন এই বিষয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিমত তুলে ধরার চেষ্ঠা করছি।

আসলে বর্তমানে ফেসবুকের টার্মস এন্ড কন্ডিশন খুব কড়াকড়ি হবার কারনে তারা একাউন্ট ব্লক করে দেয়। বিশেষ করে যারা আকাধিক  আইডি ব্যবহার করে তাদের একাউন্ট ব্লক হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে যে ফেসবুক প্রেম করার যায়গা নয়। যারা মেয়েদের বেশি বেশি ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাাঠায় তাদের একাউন্ট বেশি ব্লক হয়। কারন ফেসবুকে যে মেয়েদের প্রোফাইল রয়েছে তার মধ্যে ৯০ ভাগ ই ভুয়া প্রোফাইল। মানে হলো, ছেলেরাই মেয়েদের একাউন্ট খুলে তা ব্যবহার করে।

আসুন এইবার জানার চেষ্ঠা করি আসলে ফেসবুক কেন আমরা ব্যবহার করব:

Featured Default Imageফেসবুক হলো একটা সোস্যাল নেটওয়ার্কিং প্লাটফর্ম। এখানে আমরা আমাদের বন্ধু, আত্নীয়-স্বজন সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারি। অনেক নিত্যনতুন খবরাখবর পাই। সত্যি বলতেই ফেসবুক একটা আমাদের খুব ভাল বন্ধু। কিন্তু নতুন ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের অনেকেই মনে করেন যে, ফেসবুকে মেয়েদের কারখানা।আসলে আপনি সত্যিই ভাবুন তো আপনার জানামতে কতজন মেয়েকে আপনি চিনেন, যারা ফেসবুক ব্যবহার করে? আসলেই খুব কম সংখ্যক মেয়ে হবে। কিন্তু ফেসবুকে একটা মেয়ের নাম লিখে সার্চ করে দেখবেন হাজারো মেয়ের নাম আসবে। মনে রাখবেন যে, তাদের ৯০ ভাগ ই ভুয়া প্রোফাইল।

মনে রাখবেন, ফেসবুক এখন আর আগের মতো নেই যে আপনি ১০ টা একাউন্ট ব্যবহার করবেন। আমি ঠিক বুঝিনা যে আমাদের ১০ টা  েএকাউন্ট কেন ব্যবহার করতে হবে। একটা মাত্র একাউন্ট ই কিন্তু যথেষ্ঠ। যারা স্প্যাম করার উদ্দেশ্যে ফেসবুক ব্যবহার করেন তাদের একাউন্ট ই বেশি ব্লক হয়। অনেক বক বক হলো। এইবার চলেন একটু বলি আসলে কেন একাউন্ট ব্লক হয়।

ফেসবুক একাউন্ট ব্লক হওয়ার কারনঃ ফেসবুক একাউন্ট ব্লক হওযার পেছনে কিছু যুক্তিসংগত কারন রয়েছে। আপনার ফেসবুক একাউন্টে অকষ্মিক কোন কর্মকান্ড ঘটলে ফেসবুক সিষ্টেম তা টের পেয়ে যায় এবং আপনাকে ব্লক করে দেয়। আকষ্মিক কর্মকান্ডের মধ্যে রয়েছে যেমন,

১. খুবই দ্রুত অনেকে পোষ্টে লাইক করা।

২. অপরিচিত ব্যক্তিদের ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠানো। মনে রাখবেন এইটা ফেসবুকের নিয়ম বিরোধী কাজ।

৩. একসাথে অনেকজনকে কোন লিংক ম্যাসেজের মাধ্যমে পাঠানো।

৪. আপনি যদি কাউকে যদি ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠান আর সে যদি এক্সেপ্ট না করে উল্টা আপনাকে চিনে না বলে ফেসবুককে রিপোর্ট দেয় তখন আপনার একাউন্টের জন্য তা ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

 

এইবার চলেন জানার চেষ্ঠা করি নতুন একাউন্ট খুললেই কেন দুই এক দিন পর ব্লক হয়ে যায়ঃ 

আপনি যদি একটা একাউন্ট মাত্র খুলেন তবে আপনাকে অনেক ফ্রেন্ড সাজেষ্ট করে ফেসবুক ফ্রেন্ড এড করার জন্য। তখন যদি আপনি অপরিচিত জনকেও রিকোয়েষ্ট পাঠান আর যদি সে আপনার রিকোয়েষ্ট গ্রহন না করে আপনাকে অপরিচিত বলে দেয় তখন ফেসবুক মনে করে আপনি অপরিচিতদের রিকুয়েষ্ট পাঠিয়ে ফেসবুক টার্মস এন্ড কন্ডিশন ভঙ্গ করছেন। ধরুন, আপনি সর্বমোট ১০ জনকে রিকোয়েষ্ট পাঠাইলেন। তার মধ্যে মাত্র ২ জন এক্সেপ্ট করলো আর বাকী আটজনই আপনাকে এক্সেপ্ট করলো না। তবে দেখুন মাত্র ২০% গ্রহন করলো। ৮০% গ্রহন করলো না। এই অবস্খায় আপনার ১০০% নিশ্চিত ব্লক খাবেন।

কিভাবে বাঁচা যায় ব্লক থেকেঃ কিছু নিয়ম কানুন মেনে চললেই ব্লক এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

১. নতুন ফেসবুক একাউন্ট খুললে অবশ্যই আপনার একাউন্টের সমস্ত তথ্য দিন। মানে হলো আপনার প্রোফাইলটি ১০০% কমপ্লিট করে নিন। তার পরে আপনি শুধুমাত্র যাদেরকে চেনেন তাদেরকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাবেন। অযথা সবাইকে প্রথম প্রথম ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠিয়ে প্রোফাইলের নেগেটিভ দিক তৈরি করবেন না।

২. যারা মেয়েদের ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠাবেন নতুন প্রোফাইল খুলেই তারা ব্লক খা্ওয়ার জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন। আর যদি পাঠাতেই হয় তবে আপনি প্রথমে পরিচিত ১০০ জন ফ্রেন্ড বানিয়ে নিন।

৩, একদিনে ২০ টার বেশি ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠালে ব্লক তো খেতেই হবে।কিছুই করার নাই

৪. দুই নাম্বারি করার নিয়্যতে একাউন্ট খুললেই মনে রাখবেন আপনাকে ব্লক খেতেই হবে একদিন না একদিন।

সবাই ভালো থাকুন। নিরাপদে ফেসবুক ব্যবহার করুন।

Rate this post
Tagged as: