অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন – (নতুনদের জন্য)

পোষ্টটি শেয়ার করুন

(Last Updated On: May 2, 2022)

বন্ধুরা, আমি নিজেই লিখতে বসলাম অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং (ফ্রিলান্সিং) এ ক্যারিয়ার গড়ার একদম প্রাথমিক গাইডলাইন। আমার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্ঠা করবো। কিভাবে শুরু করবেন বা কিভাবে কি করতে হবে তা এই পোষ্টে বিস্তারিত লিখবো। তাই অন্য কোথাও না খুজে আজই বিস্তারিত পড়ুন ও শুরু করে দিন। শব্দটি ফ্রিল্যান্সিং বা ফ্রিলান্সিং এক এক জন এক এক ভাবে ডাকে। আপনার যেভাবে ইচ্ছা পড়তে পারেন।

ভাই আমার, প্রথমেই বলে রাখি যে, ফ্রিল্যান্সিং সবার জন্য নয়। আপনাকে সর্বপ্রথম বুঝে নিতে হবে আপনি এই ক্যারিয়ারের জন্য উপযুক্ত কিনা। তো কিভাবে বুঝবেন যে, আপনি পারবেন কিনা? কিছু পয়েন্ট বলে দিচ্ছি।

  1. আপনি কি ইলেক্ট্রিক পন্য নিয়ে ছোটবেলা আনমনা হয়ে ভাবতেন? অথবা আপনার ইচ্ছা হতো ইলেক্ট্রনিক্স পন্য নিয়ে কাজ করতে?
  2. আপনি কি আর্থিক অভাব অনটনের কারনে নিজে কম্পিউটার কিনতে পারছেন না কিন্তু অন্য জনের কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে ইচ্ছা হয়? বাজারের কোন একটা দোকানীর সাথে আপনি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন শুধুমাত্র তার কম্পিউটারটি একটু ধরার জন্য?
  3. আপনার কি মনে হয় যে, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে আপনার ক্ষিদা পায় না। কিংবা না খেয়েও আপনি সাড়াদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে পারবেন?
  4. কোথাও গেলে কম্পিউটার/ইন্টারনেট দেখলেই আপনার দাড়িয়ে থেকে দেখতে ইচ্ছা করে?
  5. আপনার কি স্বাধীনতা ভালো লাগে? অথবা কেউ আপনার উপর খবরদারী করবে বা অফিসের বস আপনাকে ধমক দিবে এটা ভাবলেই কি আপনার মেজাজ গরম হয়?
  6. আপনি কি আপনার সফলতার ক্ষেত্রে আপোষহীন? অর্থাৎ, যে কোন মূল্যে আপনি সফল হবেন। এমন চ্যালেন্জ নিতে প্রস্তুত?

এ প্রশ্নগুলি দিয়ে আমি আগে যাচাই করলাম যে, আপনার পর্যাপ্ত আগ্রহ আছে কিনা। সবগুলি প্রশ্নের ‍উত্তর যদি হ্যা হয়। তবে আপনার দ্বারা ফ্রিলান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। ২ বছর যদি মন দিয়ে লেগে থাকেন তবে আপনাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, অবশ্যই আপনি সফল হবেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি?

চলুন প্রথমে আমরা জেনে নেই যে, ফ্রিলান্সিং কি? ফ্রিলান্সিং/ফ্রিল্যান্সিং (Freelancing) হলো একটি ইংরেজী শব্দ যার অর্থ হলো মুক্ত পেশা। আপনি ইচ্ছা হলো কাজ করবেন আর ইচ্ছা না হলে কাজ করবেন না। যতক্ষন কাজ করবেন যে অনুপাতে আয় করবেন। এই আরকি। অনলাইন ফ্রিলান্সিং ব্যাপারটাও সেম। আপনি অনলাইনকে ব্যবহার করে কাজ করলে সেটাই অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি ধরনের কাজ করতে হয়?

এটা একান্তাই আপনার উপর নির্ভর করে। শত রকমের অনলাইন কাজ রয়েছে যার যেকোনো একটি আপনি শিখবেন ভালোমতো। তারপর আপনি সেই কাজটি মার্কেটপ্লেসে গিয়ে করবেন। উদাহরনস্বরূপ বলা যায় যে,

  • আপনি কারো ওয়েবসাইট বানিয়ে দিলেন,
  • আপনি কারো ওয়েবসাইট এর কন্টেন্ট আপডেট করে দিলেন,
  • আপনি কারো ওয়েবসাইটের ডিজাইন করে দিলেন,
  • আপনি কারো ওয়েবসাইট এর একটি সমস্যা সমাধান করে দিলেন,
  • আপনি কারো ওয়েবসাইট যেনো গুগল থেকে খুজে পাওয়া যায় সেজন্য ওয়েবসাইটকে এসইও করে দিলেন,
  • আপনি কারো ছবি ইডিট করে দিলেন,
  • আপনি কারো ছবিকে কালার কারেকশন করে দিলেন, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে দিলেন,
  • কারো প্রতিষ্টানের জন্য লোগো বানিয়ে দিলেন,
  • কারো প্রতিষ্টানের জন্য ব্রান্ডিং এর কাজ করে দিলেন,
  • কারো বিল্ডিং এর থ্রিডি মডেলিং করে দিলেন,
  • কাউকে একটা এক্সেল প্রেজেন্টেশন বানিয়ে দিলেন,
  • কারো জন্য একটা মোবাইল অ্যাপ বানিয়ে দিলেন ইত্যাদী ইত্যাদী।

এমন শত শত কাজ আছে। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন।

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শেখা শুরু করবেন?

প্রথমে বিবেচনা করুন যে, আপনার কোন সেক্টরে কাজ করতে ভালো লাগে? যদি আপনার ছবি, আকিবুকি বা ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে তবে আপনি গ্রফিক ডিজাইনিং শিখতে পারেন। অথবা গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কিত যে কোন সেক্টরে কাজ করতে পারেন। কারন ডিজাইন সেন্স সবার থাকে না। আমি নিজেই গরু আকতে গেলে মুরগী একে ফেলি। হা হা হা

আপনার যদি মনে হয় যে, কম্পিউটার এর সফটওয়ার বা ম্যথম্যাটিক্যাল ব্যাপার স্যাপার বেশি ভালো লাগে তবে আপনি অবশ্যই প্রোগ্রামিং শিখবেন। তা যে কোন প্রোগ্রামিং ই হোক না কেনো। হতে পারেন, ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলাপার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলাপার ও অন্যন্যা শত প্রকার প্রোগ্রামিং ফিল্ড আছে। আপনার মন মতো বেছে নিতে পারেন। মোবাইল এ্যপস ও ডেভেলাপ করতে পারেন।

ফটো রিটাচিং শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

ওয়েব ডিজাইন শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন 

ওয়ার্ডপ্রেস শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

আপনি যদি উপরের গুলি শিখতে পছন্দ না করেন তবে আপনি অনলাইন মার্কের্টিং শিখতে পারেন। লেখালেখিতে আগ্রহ থাকলে ব্লগিং ও শিখতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রয়েছে, যা বিলিয়ন ডলারের মার্কেট। আরো একটি ডিমান্ডের পেশা হচ্ছে থ্রিডি মডেলিং করা। যা সবাই করতে পারে না। অনেকে আবার টিস্প্রিং এ টিশার্ট সেল করেও নিজের ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বর্তমানে অনেক মানুষ ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করেও ভালোই টাকা পয়সা কামাচ্ছে। তবে আমি যদিও শুধুমাত্র ইউটিউব এর উপর নির্ভরশীল হতে পরামর্শ দিবো না। যাইহোক, এই হলো কাজের ক্ষেত্র সমূহ যা থেকে আপনি আপনার পছন্দের কাজের ক্ষেত্রটি নির্ধারন করতে পারবেন।

আপনার কি কি লাগবেঃ

  1. কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
  2. ইন্টারনেট কানেকশন
  3. ইংরেজী দক্ষতা
  4. আপনার সদিচ্ছা

খুব বেশি কিছুই না। একটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন। ব্যাস। আর সাড়া জীবন আপনার যেটা দরকার তা হলো আপনার ইচ্ছাশক্তি। কম্পিউটার ও যে খুব উচ্চ কনফিগারেশনের হতে হবে তা হয়। তবে আমি পরামর্শ দিবো যে, অন্তত কোর আই থ্রি প্রসেসর এর কম্পিউটার হলে আপনি নিশ্চিন্তে শুরু করতে পারেন যা দিয়ে আপনি মোটামুটি সব কাজই করতে পারবেন। মনে রাখবেন, ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তাই অবশ্যই একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে।

তবে একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো যে, আপনাকে মোটামুটিভাবে যোগাযোগ করার মতো ইংরেজী জানতে হবে। কারন ইংরেজী ছাড়া আপনি কখনো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে এ কাজ করতে পারবেন না। তবে আশার ব্যাপার হলো যে, কাজ করতে করতে আপনি নিজেই ইংরেজীতে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

উপার্জন করতে কত সময় লাগবেঃ

আসলে এইটা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে স্থায়ী ভাবে অনলাইন থেকে উপার্জন করতে গেলে আপানাকে অবশ্যই ২ বছর সময় দিতে হবে। কারন যদি কাজ শুরু করার মাত্র ২ মাসেই আপনি কিছু কাজ পেয়ে যান, আর তাকেই আপনার সফলতা বলে মনে করেন তা কিন্তু ভুল হবে। অবশ্যই আপনাকে আপনার আয়টাকে স্থায়ী করতে তবে। তাই আপনি কাজ শিখতে শুরু করার ৬ মাসের মধ্যে আপনি কিছু আর্নিং আশা করতে পারেন। এবং ২ বছর কাজ করার পর আপনি স্থায়ীভাবে কাজের জন্য উপযুক্ত হয়ে যাবেন। তাতে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। তাহলে এভারেজে আপনি ১ বছর পর সন্মানজনক একটা আয় আশা করতে পারবেন। যদি মনোযোগ দিয়ে শ্রম দিয়ে থাকেন।

অন্য কোন জব এ যুক্ত থাকলে কি আপনার কি করনীয়?

এইটা একটা কমন প্রশ্ন। অনেকে উচ্চাকাঙ্খায় পড়ে ফ্রিলান্সিং এর পরিকল্পনা করা মাত্রই বর্তমান জবটি ছেড়ে দেয়। এইটা চরম বোকামী ছাড়া আর কিছুই না। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ্ দিবো যে, আপনি জব এর সাথে সাথেই কাজ শিখতে থাকুন। ৬ মাসের জায়গায় দরকার হলে ১ বছরে শিখুন। আগ্রহ থাকলে শিখা কোন ব্যাপার নয়। তবে জব ছেড়ে দিয়ে আপনি চরমভাবে হতাশায় ভুগবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনি একটা ভালো আর্নিং এর জন্য পুরুপুরি উপযুক্ত তখন জব ছেড়ে দিতে পারেন। পুরু আত্ববিশ্বাস অর্জন না করে চাকরি ছাড়বেন না কোনভাবেই।

আপনি এখনো ইন্টার পাশ করেন নি, সেক্ষেত্রে কি করনীয়ঃ

বেশিরভাগ ছোটভাই ই ইন্টার পাশ না করেই অনলাইনে জড়িয়ে পড়ে। আমি তার পক্ষে নই। আমি মনে করে, একজন মানুষের মানসিক বিকাশের জন্য একটা বয়স দরকার যা ইন্টার পাশ করার সাথে সাথে পরিপূর্নতা পায়। তখনি জীবন সম্পর্কে সঠিক সিদ্ভান্ত নেওয়া সম্ভব। তাই যে সমস্ত ছোট ভাইয়ারা আমার এ ব্লগ পড়ছো তাদেরকে পরামর্শ দিবো যে, আগে ভালো করে ইন্টার পাশ করো। তার পর পুরুদমে শুরু করতে পারো। তবে যদি ইন্টারে থাকা অবস্থায় তোমার কাছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট থাকে তবে তুমি তোমার আগ্রহের সাথে মিল রেখে কিছু কিছু কাজ শিখতে পারো। তা পরবর্তীতে অনেক কাজে দিবে। তবে অবশ্যই মনে রাখবে, ইন্টার পাশ করার আগ পর্যন্ত খুব বেশি সময় দেওয়া যাবে না। সবার আগে পড়াশোনা তার পর অনলাইন। বিশেষ করে ইন্টার লেভেলে ইংরেজীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিবে। তা পরবর্তীতে ফ্রিলান্সিং এ বেশ সহায়ক হবে।

মনে রাখবেন, অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে হলে সর্বোচ্চ লেভেলের ধৈয্যশক্তির পরীক্ষা দিতে হয়। মাঝে মাঝে হতাশা আসতে পারে তা দূর করতে হবে আপনার আগ্রহ দ্বারা। যেহেতু আপনি ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করবেন, সেহেতু আপনাকে সবার থেকে আলাদা হতেই হবে। কারন আপনি সবার মতো ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অফিস করবেন না। কারন আপনি স্মার্ট।

কোথায় শিখবেন?

খুব কমন প্রশ্ন। কোথায় শিখবেন আপনি? সত্যি বলতে আপনার ইচ্ছাশক্তি থাকলে আপনি আপনার বাড়িতে বসেই ফ্রিলান্সিং শিখতে পারবেন। আমি এক ডজন ছেলে দেখাতে পারবো শুধু আমার গ্রামেই যারা শুধুমাত্র মেধা ও ইচ্ছাশক্তি দ্বারা আজ ফ্রিলান্সিং শিখে প্রতিষ্ঠিত। দরকার শুধু আপনার ইচ্ছা। তবে আপনি চাইলে দ্রুত শিখার জন্য কিংবা মনোযোগ ধরে রাখার জন্য কোনো ফ্রিলান্সিং ইনষ্টিটিউটে ভর্তি হতে পারবেন। তবে এটা যে বাধ্যতামূলক তা কিন্তু নয়। আপনি যদি কোনো ইনষ্টিটিউটে ১০,০০০ কিংবা ২০,০০০ টাকা দিয়ে শিখেন এতে আপনি কিছু বন্ধু পাবেন যারা আপনার সাথে একই কাজ শিখতে আগ্রহী। ওদের সাথে টিমওয়ার্ক করলে আপনি ভালো শিখতে পারবেন। আর একজন শিক্ষক পাবেন যে আপনাকে আপনার মনের প্রশ্নের উত্তর সাথে সাথে দিতে পারবেন। এর বেশি কিছুই না। তবে আপনি মনে রাখবেন, গুগল থেকে বড় শিক্ষক আর কেউ নয়। আপনি গুগল, ইউটিউব কে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারলে ১০০ শিক্ষকের কাজে দিবে। এবার আপনার সিদ্বান্ত নেওয়ার ব্যাপার। তবে আর্থিক সামর্থ থাকলে অবশ্যই আপনি একটা কোর্সে ভর্তি হয়ে নিজেকে যাচাই করতে পারেন।

আশার ব্যপার হলে ইদানীং আমাদের দেশে অনেক ওয়েবসাইট কোর্স বিক্রি করছে যা ভালো মানের। MSB Academy ভালো মানের কোর্স বিক্রি করে। যা দিয়ে আপনি ঘরে বসেই শিক্ষকের মতো করেই শিখতে পারেন। যাদের ফিজিক্যাল ভাবে কোর্স করা সম্ভব হয় না তারা অনলাইনে শিখতে পারেন। অনলাইনে যে সকল ওয়েবসাইট থেকে শিখতে পারেন।

MSB Academy
10 Minutes School

  আজকের মতো এখানেই বিদায় নিবো। তবে হ্যা অবশ্যই এই ব্লগের বাকী লেখাগুলি খুব মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কারন এই ব্লগে কোন উল্টাপাল্টা পোষ্ট হবার সম্ভাবনা নেই। আপনার অনলাইনে পথচলা শুভ হোক।  সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ

4.8/5 - (149 votes)