অনলাইন ফ্রিলান্সিং করতে চান? কিভাবে শুরু করবেন? – পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

বন্ধুরা, আমি প্রতিষ্ঠাতা নিজেই লিখতে বসলাম ফ্রিলান্সিং ক্যারিয়ার গড়ার একদম প্রাথমিক গাইডলাইন। কোন প্রকার কমার্শিয়াল লেখা নয়। একদম আমার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্ঠা করবো। কিভাবে শুরু করবেন বা কিভাবে কি করতে হবে তা এই পোষ্টে বিস্তারিত লিখবো। তাই অন্য কোথাও না খুজে আজই সিদ্বান্ত নিন ও শুরু করে দিন।

ভাই আমার, প্রথমেই বলে রাখি যে, ফ্রিলান্সিং সবার জন্য নয়। আপনাকে সর্বপ্রথম বুঝে নিতে হবে আপনি এই ক্যারিয়ারের জন্য উপযুক্ত কিনা। তো কিভাবে বুঝবেন যে, আপনি পারবেন কিনা? কিছু প্রয়েন্ট বলে দিচ্ছি।

১। আপনি কি ইলেক্ট্রিক পন্য নিয়ে ছোটবেলা অনমনা হয়ে ভাবতেন? অথবা আপনার ইচ্ছা হতো ইলেক্ট্রনিক্স পন্য নিয়ে কাজ করতে?

২। আপনি কি আর্থিক অভাব অনটনের কারনে নিজে কম্পিউটার কিনতে পারছেন না কিন্তু অন্য জনের কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে ইচ্ছা হয়? বাজারের কোন একটা দোকানীর সাথে আপনি ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন শুধুমাত্র তার কম্পিউটারটি একটু ধরার জন্য?

৩। আপনার কি মনে হয় যে, কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে আপনার ক্ষিদা পায় না। কিংবা না খেয়েও আপনি সাড়াদিন কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে পারবেন?

৪। কোথাও গেলে কম্পিউটার/ইন্টারনেট দেখলেই আপনার দাড়িয়ে থেকে দেখতে ইচ্ছা করে?

৫। আপনার কি স্বাধীনতা ভালো লাগে? অথবা কেউ আপনার উপর খবরদারী করবে বা অফিসের বস আপনাকে ধমক দিবে এটা ভাবলেই কি আপনার মেজাজ গরম হয়?

৬। আপনি কি আপনার সফলতার ক্ষেত্রে আপোষহীন? অর্থাৎ, যে কোন মূল্যে আপনি সফল হবেন। এমন চ্যালেন্জ নিতে প্রস্তুত?

এ প্রশ্নগুলি দিয়ে আমি আগে যাচাই করলাম যে, আপনার পর্যাপ্ত আগ্রহ আছে কিনা। সবগুলি প্রশ্নের ‍উত্তর যদি হ্যা হয়। তবে আপনার দ্বারা ফ্রিলান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। ২ বছর যদি মন দিয়ে লেগে থাকেন তবে আপনাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, অবশ্যই আপনি সফল হবেন।

তো কিভাবে শুরু করবেন?

প্রথমে বিবেচনা করুন যে, আপনার কোন সেক্টরে কাজ করতে ভালো লাগে? যদি আপনার ছবি, আকিবুকি বা ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে ভালো লাগে তবে আপনি গ্রফিক ডিজাইনিং শিখতে পারেন। অথবা গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কিত যে কোন সেক্টরে কাজ করতে পারেন। কারন ডিজাইন সেন্স সবার থাকে না। আমি নিজেই গরু আকতে গেলে মুরগী একে ফেলি। হা হা হা

আপনার যদি মনে হয় যে, কম্পিউটার এর সফটওয়ার বা ম্যথম্যাটিক্যাল ব্যাপার স্যাপার বেশি ভালো লাগে তবে আপনি অবশ্যই প্রোগ্রামিং শিখবেন। তা যে কোন প্রোগ্রামিং ই হোক না কেনো। হতে পারেন, ওয়েব ডিজাইনার, ওয়েব ডেভেলাপার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলাপার ও অন্যন্যা শত প্রকার প্রোগ্রামিং ফিল্ড আছে। আপনার মন মতো বেছে নিতে পারেন। মোবাইল এ্যপস ও ডেভেলাপ করতে পারেন।

ওয়েব ডিজাইন শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন 

ওয়ার্ডপ্রেস শেখার পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন

আপনি যদি উপরের গুলি শিখতে পছন্দ না করেন তবে আপনি অনলাইন মার্কের্টিং শিখতে পারেন। লেখালেখিতে আগ্রহ থাকলে ব্লগিং ও শিখতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রয়েছে, যা বিলিয়ন ডলারের মার্কেট। আরো একটি ডিমান্ডের পেশা হচ্ছে থ্রিডি মডেলিং করা। যা সবাই করতে পারে না। অনেকে আবার টিস্প্রিং এ টিশার্ট সেল করেও নিজের ভাগ্যে পরিবর্তন ঘটিয়েছে।বর্তমানে অনেক মানুষ ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করেও ভালোই টাকা পয়সা কামাচ্ছে। তবে আমি যদিও শুধুমাত্র ইউটিউব এর উপর নির্ভরশীল হতে পরামর্শ দিবো না। যাইহোক, এই হলো কাজের ক্ষেত্র সমূহ যা থেকে আপনি আপনার পছন্দের কাজের ক্ষেত্রটি নির্ধারন করতে পারবেন।

আপনার কি কি লাগবেঃ

খুব বেশি কিছুই না। একটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন। ব্যাস। আর সাড়া জীবন আপনার যেটা দরকার তা হলো আপনার ইচ্ছাশক্তি। কম্পিউটার ও যে খুব উচ্চ কনফিগারেশনের হতে হবে তা হয়। তবে আমি পরামর্শ দিবো যে, অন্তত কোর আই থ্রি প্রসেসর এর কম্পিউটার হলে আপনি নিশ্চিন্তে শুরু করতে পারেন যা দিয়ে আপনি মোটামুটি সব কাজই করতে পারবেন। মনে রাখবেন, ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তাই অবশ্যই একটি ভালো ইন্টারনেট কানেকশন লাগবে।

তবে একটা গুরুত্বপূর্ন ব্যাপার হলো যে, আপনাকে মোটামুটিভাবে যোগাযোগ করার মতো ইংরেজী জানতে হবে। কারন ইংরেজী ছাড়া আপনি কখনো ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটে এ কাজ করতে পারবেন না। তবে আশার ব্যাপার হলো যে, কাজ করতে করতে আপনি নিজেই ইংরেজীতে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।

উপার্জন করতে কত সময় লাগবেঃ
আসলে এইটা সঠিকভাবে বলা মুশকিল। তবে স্থায়ী ভাবে অনলাইন থেকে উপার্জন করতে গেলে আপানাকে অবশ্যই ২ বছর সময় দিতে হবে। কারন যদি কাজ শুরু করার মাত্র ২ মাসেই আপনি কিছু কাজ পেয়ে যান, আর তাকেই আপনার সফলতা বলে মনে করেন তা কিন্তু ভুল হবে। অবশ্যই আপনাকে আপনার আয়টাকে স্থায়ী করতে তবে। তাই আপনি কাজ শিখতে শুরু করার ৬ মাসের মধ্যে আপনি কিছু আর্নিং আশা করতে পারেন। এবং ২ বছর কাজ করার পর আপনি স্থায়ীভাবে কাজের জন্য উপযুক্ত হয়ে যাবেন। তাতে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। তাহলে এভারেজে আপনি ১ বছর পর সন্মানজনক একটা আয় আশা করতে পারবেন। যদি মনোযোগ দিয়ে শ্রম দিয়ে থাকেন।

অন্য কোন জব এ যুক্ত থাকলে কি আপনার কি করনীয়?

এইটা একটা কমন প্রশ্ন। অনেকে উচ্চাকাঙ্খায় পড়ে ফ্রিলান্সিং এর পরিকল্পনা করা মাত্রই বর্তমান জবটি ছেড়ে দেয়। এইটা চরম বোকামী ছাড়া আর কিছুই না। আমি ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ্ দিবো যে, আপনি জব এর সাথে সাথেই কাজ শিখতে থাকুন। ৬ মাসের জায়গায় দরকার হলে ১ বছরে শিখুন। আগ্রহ থাকলে শিখা কোন ব্যাপার নয়। তবে জব ছেড়ে দিয়ে আপনি চরমভাবে হতাশায় ভুগবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনি একটা ভালো আর্নিং এর জন্য পুরুপুরি উপযুক্ত তখন জব ছেড়ে দিতে পারেন। পুরু আত্ববিশ্বাস অর্জন না করে চাকরি ছাড়বেন না কোনভাবেই।

আপনি এখনো ইন্টার পাশ করেন নি, সেক্ষেত্রে কি করনীয়ঃ

বেশিরভাগ ছোটভাই ই ইন্টার পাশ না করেই অনলাইনে জড়িয়ে পড়ে। আমি তার পক্ষে নই। আমি মনে করে, একজন মানুষের মানসিক বিকাশের জন্য একটা বয়স দরকার যা ইন্টার পাশ করার সাথে সাথে পরিপূর্নতা পায়। তখনি জীবন সম্পর্কে সঠিক সিদ্ভান্ত নেওয়া সম্ভব। তাই যে সমস্ত ছোট ভাইয়ারা আমার এ ব্লগ পড়ছো তাদেরকে পরামর্শ দিবো যে, আগে ভালো করে ইন্টার পাশ করো। তার পর পুরুদমে শুরু করতে পারো। তবে যদি ইন্টারে থাকা অবস্থায় তোমার কাছে কম্টিউটার ও ইন্টারনেট থাকে তবে তুমি তোমার আগ্রহের সাথে মিল রেখে কিছু কিছু কাজ শিখতে পারো। তা পরবর্তীতে অনেক কাজে দিবে। তবে অবশ্যই মনে রাখবে, ইন্টার পাশ করার আগ পর্যন্ত খুব বেশি সময় দেওয়া যাবে না। সবার আগে পড়াশোনা তার পর অনলাইন। বিশেষ করে ইন্টার লেভেলে ইংরেজীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিবে। তা পরবর্তীতে ফ্রিলান্সিং এ বেশ সহায়ক হবে।

মনে রাখবেন, অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে হলে সর্বোচ্চ লেভেলের ধৈয্যশক্তির পরীক্ষা দিতে হয়। মাঝে মাঝে হতাশা আসতে পারে তা দূর করতে হবে আপনার আগ্রহ দ্বারা। যেহেতু আপনি ঘরে বসেই টাকা ইনকাম করবেন, সেহেতু আপনাকে সবার থেকে আলাদা হতেই হবে। কারন আপনি সবার মতো ৯ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অফিস করবেন না। কারন আপনি স্মার্ট।

আজকের মতো এখানেই বিদায় নিবো। তবে হ্যা অবশ্যই এই ব্লগের বাকী লেখাগুলি খুব মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কারন এই ব্লগে কোন উল্টাপাল্টা পোষ্ট হবার সম্ভাবনা নেই। আপনার অনলাইনে পথচলা শুভ হোক।  সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ

অনলাইন ফ্রিলান্সিং করতে চান? কিভাবে শুরু করবেন? – পূর্নাঙ্গ গাইডলাইন
4.9 (97.18%) 142 vote[s]