সামাজিক সংস্কার এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

পোষ্টটি শেয়ার করুন

মধ্যবিত্ত তরুনদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্বতা হলো তাদেরকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। ঘর দিতে হবে, ব্যাংক ব্যালেন্স লাগবে, ঘরে বোন থাকলে বিয়ে দিতে হবে, সামাজিক সন্মান অর্জন করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু মূলধন বলতে কিছুই থাকেনা। পৈত্রিকসূত্রে বড়জোর একটা থাকার জন্য জরাজীর্ন ঘর পাওয়া যায়। বৃষ্টির পানি সরাসরি ঘরে ঢুকে এমন অবস্থা। সকাল ১১ টার পর ঘরে থাকা যায় না কারন সূর্যের তাপে টিনের গরম অসহ্যনীয় হয়ে ওঠে।
মাস শেষে পারিবারিক খরচ যোগানের দায়িত্ব যখন একটা ১৮ বছরের তরুনের উপর আসে তখন সে ই বুঝে জীবন কত কষ্টের। বন্ধুরা যখন সেলফি, ঘুরাঘুরি আর আড্ডায় ব্যস্ত, তখন পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার যোগানের চিন্তা একটা ছেলের উপর ভর করলে সে ই বুঝে পৃথিবীর রুপ কেমন হয়।
এইতো গেলো সাধারন মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের ঘটনা। আরো হতাশা ও শূন্যতা শুরু হয় যদি কিনা বাবা কিংবা মা কেউ অসুস্থ হয়। যদি এমন হয় যে, পরিবারের কারো ঐষুধ খরচ লাগে মাসে কয়েক হাজার টাকা কিন্তু আয়ের তেমন পথ নাই তাহলে অবস্থা আরো করুন হয়।
এমন শূন্য অবস্থা থেকেও গ্রামের হাজারো ছেলেরা স্বপ্ন দেখে তিলে তিলে জীবন সাজানোর। টুকটাক চাকরি আর ছোটখাটো ব্যবসা করে শূন্য থেকেই পাহাড় জয়ের স্বপ্ন দেখে। কিছু টাকা মূলধন হিসাবে পেলেও হয়তো ব্যবসায় আগানো যেতো কিন্তু ঐ যে, মধ্যবিত্ত! একেবারেরই শূন্য থেকে শুরু করতে হয় সবকিছু।
এতোকিছুর পরেরও যদি এমন অবস্থায় থাকা একটা ছেলের কাছে পারিবারিক চিন্তা বাদ দিয়ে এটা চিন্তা করতে হয় যে, সুভাস বাবুকে ৫০০০ টাকা ঘুস না দিলে নানান সমস্যা সৃষ্টি হবে। ছোটোখাটো যে ব্যবসা করে বাজারে বন্দরে, সেটাতেও সমস্যা হবে তাহলে ঐ ছেলেই শুধু বুঝে যন্ত্রনা কি জিনিস। আত্নহত্যা কিংবা প্রতিরোধ করার মতো কোনো সুযোগ ও থাকে না। ঐ যে, পরিবারের মানুষের খাবার যোগার করতে হবে আগামী মাসের জন্য। বেচেও থাকতে হবে, প্রতিবাদ ও করা যাবে না। আবার মারাও যাওয়া যাবে না। পৃথিবীতেই এতো মানসিক যন্ত্রনা নিয়ে বেচে থাকতে হয় একটা ১৮ বছরের ছেলের!
সমাধান কি নেই?
আমি বলি! সমাধান আছে। সুভাস বাবুদের প্রতিরোধ করতে হবে। তার জন্য যা যা দরকার তাই করতে হবে।
আপনার বিছানায় যদি রাতে কিছুক্ষন পর পর পিপড়া কামড়ায় তাহলে কি করবেন? একটা করে কামড় দিবে তারপর একটা করে মারবেন? এভাবেই সাড়া রাত কাটবে? তার থেকে ভালো জেগে ওঠে ঘরের আলো জ্বালিয়ে সবগুলি পিপড়া একেবারে মারুন। তারপর সাড়া রাত ভালো মতো ঘুমাতে পারবেন।
নিজের থাকার জায়গাটা উপযুক্ত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। আকাশ থেকে কোনো জ্বিন পরী এসে আপনাকে আরাম করে দিবে না যদি না কষ্ঠ করে আপনি জাগেন। আলো না জ্বালালে অন্ধকারে পিপড়ার কামড় ই খেতে হবে সাড়াজীবন।
সিদ্বান্ত আপনার!