শুধুমাত্র নির্যাতনকারীদের বিচার হলেই কি যথেষ্ট নাকি সামাজিক সংস্কার জরুরী ?

পোষ্টটি শেয়ার করুন

খুব খেয়াল করুন, নোয়াখালীতে ৩২ দিন আগে এক নারীকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র করে প্রচন্ড অমানুষিক নির্যাতন করে একদল কুলাঙ্গার। ভিডিওতে দেখতেই পারছেন হাসাহাসি করে জোরেসোরে এই মহিলার উপর নির্যাতন হয়েছে। নিশ্চই আশেপাশের মানুষ বা পরিবারের অন্যান্য মানুষ বিষয়টি অবগত রয়েছেন। একটা গ্রামে এতো বড় ঘটনা হয়ে গেলেও ৩২ দিন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। এমনকি ঐ এলাকায় এ নিয়ে কোনো বিচার সালিশ হয়নি। এমনভাবে ছিলো যে, পুরু এলাকার মানুষ ই সব জানে কিন্তু কেহই কিছু বলেনি।

৩২ দিন পর ঘটনা ফেসবুকে দিয়েছে ঐ নির্যাতনকারীদের মধ্যেই একজন। এমনকি নির্যাতন করার সময়ও তারা উচ্চ সূরে বলছিলো যে, এ ভিডিও ফেসবুকে যাবে !
এমন একটি জঘন্য নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে দেওয়ার কথা একদল কুলাঙ্গার তখনি বলে যখন তারা এ বিষয়টিকে সাধারনভাবে দেখে। হয়তো আজ এতো ভাইরাল না হলে এ ঘটনা ঐ কুলাঙ্গারদের কাছে খুবই সাধারনভাবেই থাকতো।

এমন ঘটনা আরো ঘটতো ঐ এলাকায়। একবার ভাবেন, কতটা উগ্র হলে একদল ছেলেপেলে এমন কাজকে স্বাভাবিক ভাবতে পারে?
আমি নির্যানতকারীদের বিচার থেকেও চিন্তিত ঐ সমাজের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে। এ ঘটনা ৩২ দিন পর্যন্ত নিশ্চই ঐ এলাকার তথাকথিত কুলাঙ্গার বিচারকরা অবগত ছিলেন। হয়তো আয়েশি ভঙ্গিতে বিচারকের সাথে থাকা কোনো একজন অমানুষ কুলাঙ্গার বলেছিলো,

— “আরেহ কিসের বিচার। আমাদের পোলারা যা করেছে ভালেই করেছে।”
এভাবেই এতো বড় জঘন্য অপরাধটিও চাপা পড়ে ছিলো।

একটা সমাজকে এমন ভীতিকর অবস্থার মধ্যে রাখে কেবল সুবিধাভোগী ঘুসখোর কিছু সুভাসবাবুরা। এর এর সূত্র ধরেই একটি সমাজে অপরাধ বৈধতা পায়। নির্যাতনকারীদের বিচার এর সাথে জরুরী সামাজিক সংস্কার। যারা ঐ সমাজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিচার ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে রেখেছে তাদের সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দরকার।

হয়তো কিছুদিন পর জানা যাবে যে, হয়তো ঐ সামাজের তথাকথিত বিচারকরা এ মির্মম ঘটনা জেনেও বিচার না করে উল্টা হাসাহাসি করেছে আর নয়তো সুভাস বাবুদের মত কিছু ঘুসখোরেরা টাকা খেয়ে এ ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে।
অতএব, সামাজিক সংস্কার ঐ সমাজে একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।